Gandharvam, A Refereed Journal of Sachin Debbarman Memorial Govt. Music College
প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষায় পন্ডিত ভাতখন্ডের অবদান :-
-Kashmira Chakraborty (Dutta)
সারসংক্ষেপ
প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা বলতে বিদ্যালয়,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অনুমোদিত শিক্ষা, তাকেই এককথায় প্রাতিষ্ঠানিকশিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হয়|উনবিংশ শতকে পন্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার দরুন একদা যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন,তা এককথায় অনিকার্য|এবং মুখ্যত ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সংগীত শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত করানোর জন্য যে পরিশ্রম এবং দুঃসাধ্য কর্মকান্ড করেছিলেন,সত্যিই তা অভাবনীয়|প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার জন্য যেমন কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার প্রয়াস করেছিলেন, তেমনি শিক্ষার জন্য উপযুক্ত পাঠক্রম, বার্ষিক পরীক্ষা,সাংগেতিক অধিবেশন ইত্যাদিরও ব্যবস্থা তিনি নিজ স্কন্দে তুলে নিয়েছিলেন|এবং ভারতবর্ষের মিউজিক অধিবেশনের চিন্তা-ভাবনা ও তাঁর ফলপ্রসূ পন্ডিতজীর হাত ধরেই সফলতা প্রাপ্ত হয়েছিল|সর্বশেষ আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য হল সাংগেতিক পুস্তক রচনা|সাংগেতিক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন,সেইরূপে তিনি পাঠক্রম অনুযায়ী শিক্ষাত্রীদের কথা চিন্তা করেই ক্রমানুসারে সাংগেতিক গ্রন্থ রচনায় নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলেন|এবং সর্বপরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পন্ডিতজির এই বৈপ্লবিক অধিবেশন কিন্তু সর্বতোভাবে কার্যকর এবং সফলতা প্রাপ্ত করেছিল|
বিষয়সূচক শব্দ
প্রাতিষ্ঠানিক,সাংগেতিক অধিবেশন,সংগীত শিক্ষা,ক্রিয়াতক,হিন্দুস্থানী সংগীত,কলেজ,শিক্ষা পদ্ধতি,পাঠক্রম,শাস্ত্রীয় সংগীত|
বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংগীত শিক্ষার যে রীতি,এক কথায় তাই প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার ধারক-বাহক হিসাবে যার নামটি সর্বসম্মত ভাবে গ্রাহ্য,তিনি হলেন প: বিষ্ণুনারায়ন ভাতখন্ডে|এর প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা সরূপ আমাদের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সংগীতশাস্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সংগীত-চিন্তায়’ বলেছেন –
“বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে ভাত্খন্দেই সেই যোগ্যতম|”১
তাঁর সংগীত-চিন্তা গ্রন্থে অন্যত্র বলেছেন –
“আমার মনে সন্দেহ নেই যে, ভাত্খন্দেই সেই লোক. ভারতীয় সংগীত-বিদ্যা সম্মন্ধে তাঁর যে ভূরিদর্শিতা তা আর কারও নেই,তা-ছাড়া তাঁর উদ্ভাবিত শিক্ষাদানপ্রণালীর অসাধরণ নৈপুণ্য সকলকেই স্বীকার করতে হবে| তিনি গায়ক নন,তিনি গান-শাস্ত্রের মহামহোপাধ্যায়|অন্যত্র তাকে যদি হিন্দুস্থানী গান-শিক্ষার যে ভিত্তি রচনার করেছেন,বাংলাদেশেও যদি তাঁকে সেই ভিত্তি রচনার সুযোগ দেওয়া যায় তবে বিশবিদ্যালয় যথার্থ সফলতা লাভ করবেন, একাজ তিনি ছাড়া আর কারও দ্বারা সুসম্পূর্ণ হতে পারবে না|”২
আমাদের মনে সন্দেহমাত্র নেই যে, প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার প্রয়োজনীতা কেন দেখা দিল?তাহলে বলা যায় যে,প্রাক-ভাতখন্ডের সময়ে অর্থাৎ উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে প্রচলিত গুরুমুখী সংগীত-শিক্ষার বহুল বিস্তার ছিল|
১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সংগীত-চিন্তা, বিশ্বভারতী,কলিকাতা,পৃ ২২৯
২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সংগীত-চিন্তা, বিশ্বভারতী,কলিকাতা,পৃ ২৩4
সংগীত সেই সময়ে বিনোদনের উপকরণ ছিল একমাত্র প্রভাবশালী এবং অভিজাত ব্যক্তিদের জন্য|সাধরন মধ্যবিত্ত সংগীত প্রেমীদের সেই দরবারী সংগীত শিক্ষার কোনো সুযোগ ও অধিকার ছিল না|সংগীত সেই সময় একমাত্র মনোরঞ্জনের সামগ্রী হয়ে থাকে|এই সময় বিভিন্ন ক্রিয়াত্মক সম্প্রদায়ের গুনীরা তাঁদের ক্রিয়াত্মক বিষয়ে ব্যাখ্যা নিজ নিজ কল্পনানুসারে করতে শুরু করেন|এরফলে হিন্দুস্থানী সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কোনো সঠিক ঐক্যমত এবং সঠিক ব্যাখা তিনি কারও কাছ থেকে পাননি|শিল্পীরা নিজ নিজ পদ্ধতিতে সংগীত পরিবেশনের রীতির পার্থক্য তৈয়ারী করেন এবং ব্যবসায়িক সংগীত সমাজে বিভিন্ন সংগীত ঘরানার উথ্থান হয়,কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা শাস্ত্র থেকে বিচুত্য হতে শুরু করে|প: ভাতখন্ডে এই ত্রুটি উপলব্ধি করেন এবং সংগীতকে বিশুদ্ধ ভাবে শিক্ষিত করে তুলতে বদ্ধ পরিকর হণ|তাঁর এই চিন্তা-ভাবনা দ্রুত থেকে দ্রুততর দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহী হয়ে পড়েন,এবং তাঁর এই যুদ্ধের সহযোদ্ধাদেরও নির্বাচন করে ফেলেন|তাদের মধ্যে রামপুরের নবাব,ছমমন্ সাহেব এবং ঠাকুর নবাব আলী তাকে সর্বসম্মত ভাবে সাহায্য করেন,এই দুর্বিসহ পরিকল্পনাকে সফল করার প্রয়াসে|এই সাধারন মানুষ থেকে সংগীত শিল্পী প্রত্যেকের মধ্যে দ্রুত বিস্তৃত হয়ে যায়|এবং পন্ডিতজী ভারতবর্ষে প্রথম বরোদায় সংগীত অধিবেশন(All India Music Conference)এর পরিকল্পনা করেন,ও সকল ঘারানাদার সাংগীতিক গুনিদের আমন্ত্রিত করেন জনসমক্ষে সংগীত পরিবেশন করার জন্য একে অপরের সাথে তাদের সাংগেতিক ভাব আদান-প্রদানের জন্য|বরোদায় অনুষ্ঠিত প্রথম সাংগেতিক অধিবেশন এক কোথায় বৈপ্লবিক অধ্যায়| ১৯১৬সালে মার্চ মাসে বরোদায় কলেজের সেন্ট্রাল হলে অধিবেশন পরিবেশিত হয়|বরোদায় অনুষ্ঠিত প্রথম সাংগেতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই গোয়ালিয়রে ‘জয়জীপ্রতাপ’ নামে এক দৈনিক পত্রিকায় অধিবেশন সম্পর্কে অনুষ্ঠিত হয়েছিল. এই প্রথম অধিবেশন এককথায় সম্পূর্নরূপে সাফল্য অর্জন করেছিল|এরপর একে একে (১৯১৬-১৯২৫)সাল পর্যন্ত সারা ভারতবর্ষে বিভিন্ন প্রান্তরে তিনি পাঁচটি সাংগেতিক অধিবেশন সম্পন্ন করেন|এরপর ভারতবর্ষের দ্বিতীয় অধিবেশনের সূচনা হয় রামপুর নবাবের অধীনে এবং ভাতখন্ডের প্রবল কর্মশক্তি ও বৃজকৃষ্ণ কলের সম্প্রদায়ের অধিবেশনের সফলতা প্রাপ্ত হয়|এই অধিবেশনের সাধারণ কিছু রাগ সম্পর্কে আলোচনার সূচনা হয় এবং রাগের সাধরণ কিছু নিয়ম এই অধিবেশনে সর্বত মতামতের ফলে এক নিদৃষ্ট উপস্হাপনে উপস্হাপিত হয়| এই কথপোকথনের মাধ্যমে উপনীত হওয়া নিয়মই তিনি হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতির চতুর্থ খন্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন|এই অধিবেশনের মুখ্য উল্লেখযোগ্য বিষয় বস্তু ছিল-
- A good workable raga system embodying all the ragas now sung in Northern India.
- A plentiful supply of valuable up-to-date literature on music.
- A fair supply of well-equipped professor.
- A faithful record of all the available water pieces of over first class expert for future guidance.
- And a public institution where music could be taught on the most scientific and up-to-date lines.
১৯১৯ সালের নভেম্বর মাসে আবার সমউদ্যম ও উৎসাহের সাথে বেনারসে অল্ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সর তৃতীয় অধিবেশনের সূচনা হয়|পূর্ববর্তী দুই অধিবেশনের মতই ভাত্খন্দেজীই ছিলেন এই অধিবেশনের সম্পাদক|এই অধিবেশনেও ভারতবর্ষের সমস্ত দক্ষ সংগীতজ্ঞ,বাদ্যাকার,শাস্ত্রকার ইত্যাদি সবাইকে আমন্ত্রিত জানানো হয়েছিল একে অপরের সাথে শৈল্পিক এবং ভাব-আদান প্রদানের জন্য এবং ভারতবর্ষের সাংগীতিক শিক্ষার ব্যবস্থার এক শক্ত পোক্ত ভীত প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াসে|তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—ওস্তাদ ফৈয়াজ খান,জাকিরুদ্দিন খান,নাসিরউদ্দিন খান,আলা বন্দে খান, মুসারফ খান বীনকার,ইমদাদ খান এবং তাঁর ছেলে আলী খান এবং ইনায়েল খান এছাড়া বারকাতউল্লা এবং প: বিষ্ণু দিগম্বর পলুস্কার|উল্লেখযোগ্য, পূর্ববর্তী অপন্ডিতজী পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁর ক্রমিক পুস্তক মালিকা এবং হিন্দুস্থানী সংগীত পদ্ধতিতে নিবদ্ধ করেন|এরপরবর্তী ক্ষেত্রে ১৯২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্ণৌতে চতুর্থ অধিবেশন এবং ১৯২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে কৈসের বাগ প্যালেসে লক্ষ্ণৌতে পঞ্চম অধিবেশনর সূচনা হয়|পূরবর্তী তিনটি অধিবেশন সফল হওয়ার জন্য অনেক গুনী মানুষ্ এই অধিবেশনে নিজেদের যোগসূত্র স্থাপিত করেন, তাদের মধ্যে রাই ধিবেশনে ঘরানাদার ওস্তাদের রাগ-সম্পর্কে আলোচিত বিষয় বস্তু রাজেশ্বর বলি, দারিয়াবাদ|এছাড়া রাজা রাই রাজেশ্বর বলি যিনি একজন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন|এই তৃতীয় অধিবেশনেই প্রস্তাব উপস্হাপিত হয় দিল্লিতে,এক আধুনিক সঙ্গীতের একটি একাডেমী প্রস্তুত করার প্রয়াসে|রাই উমানাত বলি লক্ষ্ণৌতে এই প্রস্তাবকে সাফল্য মন্ডিত করেছিলেন|এরপর উত্তরপ্রদেশের সরকার, স্যার উইলিয়াম ম্যারিস সংস্কৃত সাহিত্য,শাস্ত্রীয় সংগীত এবং সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন|তাদের এই বিষয়ের প্রতি আগ্রহই দারিয়াবাদ তালুকদারের নিকটস্থ করেছিল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল,এরফলে উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী রাই উমানাথ বলি লক্ষ্ণৌতে ম্যারিস কলেজের সূচনা করেন|পঞ্চম অধিবেশনের মুখ্য বিষয় ছিল সঙ্গীতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং এই চিন্তাভাবনাকে সাফল্য মন্ডিত করার প্রয়াসে অর্থ সংগ্রহের আরম্ভ হল|১৯২৬ সালে তপওয়ালি কোটিতে সংগীতের ক্লাসের সূচনা হয়|এটা ছিল ম্যারিস কলেজের সূচনার মুহূর্ত যেটা পরপর্তীকালে ভাত্খন্ডে বিশ্ববিদ্যালয় এবং যার শাখা উত্তর এবং পূর্বভারতেও ছড়িয়ে পড়ে| ভাতখন্ডেজী যখন সংগীত শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে নিয়োজিত করার সূচনা করলেন সেই সাথে সাথে এই শিক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিক সংগীত শিক্ষা পদ্ধতিতে নিবদ্ধ করার প্রয়াসে নব সাংগেতিক পদ্ধতির সূচনা করলেন|উল্লেখযোগ্য-স্বরগ্রাম, শ্রুতি, ঠাটপদ্ধতি, স্বরলিপিপদ্ধতি, রাগের সময় নির্ধারণ ইত্যাদি| উদাহরন হিসাবে বলা যায়,একটি রাগের নির্ধারণ করার জন্য ‘পকড়’ নামে এক সহজ পদ্ধতিরও প্রবর্তন করেন|আবার রাগের স্বর নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বা স্বয়ং সম্পূর্ণ রাগ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে এক সহজ নিয়মাবলীর প্রবর্তন করেন|আবার একটি রাগ রূপ গঠিত হয় যে স্বরক্রম দ্বারা,সেই স্বরক্রমের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি স্বরকে বাদী এবং তার থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্বরকে সমবাদী স্বর বলা হয়|এইরূপে রাগরূপকে স্ব্য়ং সম্পূর্ণ ভাবে সাধরণ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবার জন্য সহজ প্রক্রিয়ার নির্মান করেন|আবার স্বরলিপির ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ সহজও বোধগম্য করার প্রয়াসে এক নব্য পদ্ধতি প্রচলন করেন|সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা লাভও তাঁর ১০ ঠাট পদ্ধতির সাহায্যে অতি দ্রুত নিষ্পন্ন করা যায়.তাছাড়া আধুনিক রাগ-রাগিনীগুলিকে বর্গীকরনের সহজতম পন্থা হল তাঁর ১০ ঠাট পদ্ধতি|প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার রূপকে বিস্তৃত করার প্রয়াসে তাঁর নতুন শিক্ষা পদ্ধতি,বিভিন্ন স্থানে সাংগেতিক অধিবেশনের মাধ্যমে সঙ্গীতকে সর্বসাধারণের মাধ্যমে বিস্তৃত করা,একে অপরের ভাব-আদানপ্রদান হওয়ার ফলে হিন্ধুস্হানী সঙ্গীতের এক নয়া পদ্ধতির যেমন উন্মোচন হয়,সেইরূপ সাধরণ মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব বিস্তার লাভ করে. আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়,এই সংগীতশিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে পন্ডিত ভাত্খন্দেজীর অবদান অনস্বীকার্য|আজ বহুল পরিমানে সংগীত শিক্ষার স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষার বিস্তার তা সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান পন্ডিতজীর|পরীক্ষার মাধ্যমে সংগীত উপাধি দেওয়ার পদ্ধতিটি পন্ডিত কতৃক প্রচারিত হওয়ার ফলে সঙ্গীতের শাস্ত্র পথের প্রসার ঘটে|যাইহোক,পন্ডিতজী সংগীত অধিবেশনের সাথে সাথে স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতশিক্ষার পাঠক্রম চালু করার প্রয়াস করেন এবং তাঁর চেষ্টায় সাফল্য মন্ডিতও হয়|সংগীত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বরূপ তিনি কিছু পরিকল্পনা করেন|গোয়ালিয়র,বেনারসে, বরোদা,লক্ষ্ণৌ ইত্যাদি স্থানে তিনি সংগীত বিদ্যালয় স্হাপন করেন|পঞ্চম অধিবেশনের মূল লক্ষ্য ছিল লক্ষ্ণৌতে সাংগেতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠার করার সাথে সাথেউন্মোচন|১৯১৬ সালে তিনি বরোদায় প্রথম স্টেট মিউজিক স্কুল চালু করেন এবং তার এরপরে মহারাজা গোয়ালিয়রে সাহায্যে গোয়ালিয়রে ১৯১৮ সালে মাধব সংগীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করেন|মাধব সংগীত বিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক জিন.এন.নাট্টু এবং দ্বিতীয় স্নাতক ছিলেন বি.এস.পাঠক এরা পরবর্তীকালে মাধব সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে নির্বাচন হন|এছাড়া রাজাভাইয়া,কৃষ্ণনারাও দত্তে, ভাস্কর রাও খন্ডদিপারকর এবং গোখালে এরাও মাধব সংগীত বিদ্যালয়ের সহকর্মী ছিলেন এবং এদের সাথে পন্ডিতজী মাসখানেক কাজ করেছিলেন|১৯২৬ সালে রাই উমানাথ বলি এবং তাঁর ভাইপো ড: রাই রাজেশ্বর বলি এবং পন্ডিতজীর সহয়তায় লক্ষ্ণৌতে ম্যারিস কলেজের উন্মোচন হয়|পরবর্তী ক্ষেত্রে এই কলেজটির নাম বদলে ভাতখন্ডে মিউজিক কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং বর্তমানে ভাতখন্ডে মিউজিক কলেজ(Deemed University)হিসাবে উল্লেখযোগ্য| প্রতেকটি স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা,পাঠক্রম,বার্ষিক পরীক্ষার রীতিনীতি কিরূপ হবে সেইসবও তিনি তৈয়ারী করে ফেলেন|
উত্তরভারতীয় শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ব্যাপারে পন্ডিত ভাত্খন্দেজীর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরনীয়|আজ যে শাস্ত্রীয়সংগীত সর্বশ্রেণীর সমাজে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহুল পরিমানে অনুশীলিত হছে তার পশ্চাতে পন্ডিত ভাতখন্ডের দান অনেকখানি|যাইহোক,মোটের ওপর সব মিলিয়ে ভারতীয় সংগীতে প: ভাতখন্ডেজীর অবদান এক কথায় অসাধারণ|
তথ্যসুত্র:
১.ভাতখন্ডে, ভি.এন. হিন্দুস্থানী সংগীতশাস্ত্র. হাথরস(উত্তরপ্রদেশ):
সংগীত কার্যালয়, ১৯৬২|
২.ভাতখন্ডে, ভি.এন. ক্রমিক পুস্তকমালিকা. হাথরস(উত্তরপ্রদেশ):
সংগীতকার্যালয়,১৯৬২|
৩.এস.এন.রতন ঝংকার. ভাতখন্ডে, অশোক মিত্র, ১৯৬৭|
৪.Nayar Sobhana. Bhatkhande’s contribution to music, popular prakashan, Delhi.
৫.ইন্দিরা কলা সংগীত বিশ্ববিদ্যালয়. ভাতখন্ডে স্মৃতি গ্রন্থ, খয়রাগড়,মধ্যপ্রদেশ|
৬.বৃহস্পতি আচার্য কৈলাস চন্দ্র.সংগীত চিন্তামনি. সংগীত কার্যালয় প্রদেশ):হাথরস|
Kashmira Chakraborty, Ph.D Scholar, Musicology Department, Rabindra Bharati University,Kolkata.